মনের বাঁধা অতিক্রম করে জীবনে কিভাবে এগিয়ে যাবেন

মনের বাঁধা অতিক্রম করে জীবনে কিভাবে এগিয়ে যাবেন

জীবনে কিভাবে এগিয়ে যাবেন তা জানার জন্য লিখাটি সম্পূর্ণ পড়ুন। আমাদের বর্তমানে মোট সাবস্ক্রাইবার ৭ হাজার কিন্তু আমাদের চ্যানেলে বর্তমানে ভিডিও গুলোতে অ্যাভারেজ ভিউ মাত্র ৫ হাজার। অন্যান্য এরকম প্রচুর ইউটিউবে চ্যানেল আছে যাদের সাবসক্রাইবার ৭ হাজারের আশেপাশে, তাদের চ্যানেলের ভিডিও গুলো তে এক দিনে ৫ হাজারের বেশি ভিউ পড়ে যায়। কিন্তু কোন কারণে আমাদের চ্যানেলের ক্ষেত্রে সেটা কখনো হয় না। আমরা সবসময় চেষ্টা করি আমাদের ভিডিও গুলোর মধ্যে দিয়ে আপনাদের নতুন কিছু শেখানোর। যাতে করে আপনাদের কিছু অন্তত উপকার করতে পারি। যাতে করে আপনাদের জীবন সমস্যার সমাধান করতে সাহায্য করতে পারি। তবু প্রতিটা ভিডিও তে কিছু মানুষ নিয়ম করে লাইক দিতে তো জানেনই না। তার সাথে অকথ্য ভাষায় গালাগালি টাও ফ্রিতে দিয়ে যান। এরপর যদি ইউটিউব থেকে রোজগারের কথা বলি। তখন একটা ভিডিওতে ৫ হাজার ভিউ করলে সেখান থেকে ১০০ টাকার মতো রোজগার হয়। বর্তমানে  এক সপ্তাহ ধরে পরিশ্রম করে একটা ভিডিও আপলোড করে সেখান থেকে যদি মাত্র ১০০ টাকা রোজগার হয়, তাহলে এতটুকু রোজ হলে কি জীবন চলবে! ভিডিও বানাতে বসে এই ধরনের নেগেটিভ চিন্তা গুলো মাঝেমধ্যেই আমার মনের মধ্যে এসে উঁকি মারে। নতুন ভিডিও বানানোর ইচ্ছাটাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করে।

মনের বাঁধা অতিক্রম করে জীবনে কিভাবে এগিয়ে যাবেন (1)
মনের বাঁধা অতিক্রম করে জীবনে কিভাবে এগিয়ে যাবেন (1)

এটাকে দ্যা ওয়ার অব আর্ট বইয়ের লেখক রেজিস্ট্যান্স বলে উল্লেখ করেছেন। আর এই রেজিস্ট্যান্স আমাদের সবার জীবনে বাঁধা সৃষ্টি করে। এটা কাউকে নিয়মিত মন দিয়ে পড়াশোনা করতে দেয় না। তো কাউকে আবার নিজের কাজে মন বসাতে দেয় না। নেগেটিভদের সাথে লড়াই করে, তাদের হার মানিয়ে আপনি মন থেকে নিজের জীবনে যেটা করতে চান, সেটা কিভাবে করা সম্ভব। সেটাই আজ এই লেখাতে আমি আপনার সঙ্গে শেয়ার করব।

তো চলুন এই জীবন সমস্যার সমাধান জেনে নেওয়া যাক।

Advertisement

মনের কথা উল্লেখ করা:

যদি আপনি নিজের পছন্দের মানুষটিকে নিজের মনের কথাটা বলতে ভয় পাচ্ছেন, তাহলে আপনার উচিত তাকে নিজের মনের কথাটা বলে দেওয়া। কারণ আমাদের মনের ভিতরে যে রেজিস্টেন্স দানব বাস করে তার সব থেকে প্রিয় খাবার হলো হয় ভয়। যার মনে যত বেশি ভয় তার মনের মধ্যে রেজিস্ট্যান্স দানব ততো বেশি শক্তিশালী। রেজিস্ট্যান্সের একমাত্র কাজ হলো আপনি যেটা মন থেকে করতে চান, সেটা করতে  আপনাকে আটকানো। এই যে আপনি প্রতিদিন ইউটিউবে এত ভিডিও দেখেন তো আপনার হয়তো ইচ্ছা করে নিজের একটা ইউটিউব চ্যানেল শুরু করার কিন্তু চ্যানেল শুরু করার পর সেটা না চললে কি হবে। যদি ভিডিও গুলো নিয়ে মানুষ খিল্লি করে। আপনার মনের ভিতরে এধরনের ভয়গুলো কে কাজে লাগিয়ে রেজিস্টেন্স দানব আপনাকে আটকে দেয়।

লেখক এর মতে যে কাজটা করতে আমাদের যত বেশি ভয় লাগে। সেই কাজটা ততো বেশি করে আমাদের করা উচিত। কারণ ভয় কে জয় করার পর আমাদের নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস বাড়ে। তার সাথে সাথে রেজিস্ট্যান্স দানবের শক্তিও অনেকখানি কমে যায়। আপনার পছন্দের মানুষটিকে নিজের মনের কথা বলার পর সে যদি আপনার প্রস্তাবের নাও করে দেয়, তবু আপনার তাতে লাভ। কেননা নাম্বার ওয়ান আপনি নিজের ভয়টা কে অন্তত জয় করতে পারবেন। নাম্বার টু আপনার মনের ভেতর থেকে কনফিউশন দূর হবে। জুলে থাকার থেকে পরিষ্কার করে নেওয়া অনেক ভালো।

আপনার পছন্দের জীবন নিয়ে বাঁচতে চেষ্টা করুন:

আমাদের প্রত্যেকের দুটো করে জীবন থাকে। একটা যেভাবে আমরা বাঁচি। আর একটা যেভাবে আমরা বাঁচতে চাই। কিন্তু ভয়ের কারণে পিছিয়ে আসি। কেউ হয়তো একজন গায়ক হয়ে বাঁচতে চাই। কিন্তু ব্যাংকের ক্লার্ক এর চাকরি নিয়ে সারাদিন বসে সে আগুনে জীবন কাটাচ্ছে। কারো হয়তো স্বপ্ন দেশ-বিদেশ ঘুরে জীবন কাটানো, কিন্তু সে শপিংমলে বিল বানানোর কাজ করছে। লেখক এর মত এদের সবাইকে নিজের পছন্দ অনুযায়ী বাঁচতে বাধা দিচ্ছে। এরা মনের ভিতর থেকে কখনো এভাবে ভাবে না যে, যদি আমি মন থেকে চাই দেশ-বিদেশ ঘুরে বাঁচতে তাহলে একটা বস্তাপঁচা শপিংমলে দিনের পর দিন কাটানোর বোকামি। সকাল থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত বিল বানানোর কাজ করে এমনিতেই তো সেই আমার জীবনটা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তার থেকে বরং যেভাবে আমি মন থেকে বাঁচতে চাই সেভাবে বাঁচতে পারাটা অনেক ভালো হবে।

Advertisement

বাঁচার চেষ্টা করতে গিয়ে যদি আমার জীবনটা নষ্ট হয়ে যায় সেটা তো বেশি সন্তোষ দায়ক হবে। কারণ আমি কখনো চেষ্টাই করলাম না! এই আফসোসটা তো অন্তত সারা জীবন বয়ে নিয়ে বেড়াতে হবে না। এবার রেজিস্টেন্স দানব যেমন এক্সকিউজ দেবে দেশবিদেশ ঘুরতে যাই বললেই কি হয়ে গেল নাকি! দেশ বিদেশ ঘুরতে অনেক টাকার প্রয়োজন আছে। সত্যি বলতে দেশ বিদেশ ঘুরতে টাকা লাগে না। এরকম কোন একটা এক্সকিউজ তুলে এনে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করবেন। তো এরকম ক্ষেত্রে নিজেকে নিজে প্রশ্ন করতে হবে সত্যি কি তাই? এরকম প্রচুর ভিডিও ইউটিউবে রয়েছে। যেখানে রয়েছে কিভাবে ফ্রিতে যে কেউ চাইলেই দেশ বিদেশে ঘুরে বেড়াতে পারেন। সেটা অলরেডি প্রচুর ইউটিউবার করছে। এটার জন্য শুধু দরকার ভয় কে জয় করে, সাহস করে এগিয়ে যাওয়া।

নিজের ইউনিক গিফটটি মানবজাতি কে দেওয়ার চেষ্টা করুন:

সরকারি চাকরি ছেড়ে দিয়ে মাহিন্দ্র সিং ধোনি যদি ক্রিকেট জগতে না আসতেন, তাহলে আজ হয়ত ভারতীয় ক্রিকেট বিশ্বকাপ জিততে পারতো না। নিজের স্বপ্নের কথা ভেবে যদি নিজের মোবাইল ফোন বাদ দিয়ে এবং সব থেকে প্রিয় খাবার টা খাওয়াও বাদ দিয়ে যদি পিভি সিন্ধু বন্ধ না করতেন। তাহলে আজ হয়তো ওয়ার্ল্ড ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপে ভারত গোল্ড মেডেল যেতে পারত না। কি মনে হয় এরা যখন একই রকম সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তখন তাদের মনের ভিতরকার রেজিস্টার দানব একেবারেই ছিল না। এক্ষেত্রেও রেজিস্ট্রার দানব প্রচুর চেষ্টা করেছে, তাদের সিদ্ধান্ত বদলে দেওয়ার জন্য। কিন্তু তাদের ইচ্ছা শক্তির কাছে, তাদের মনের ভিতরকার রেজিস্টেন্স দানবকে হার মানতে বাধ্য হতে হয়েছে।

এরকমই আপনার মধ্যেও আপনার দেশকে সমগ্র মানবজাতিকে দেওয়ার মতো ইউনিক গিফট হয়েছে। যেটা যদি একবার আপনি সাহস করে নিজের ভেতর থেকে বাইরে বার করে নিয়ে আসতে পারেন তাহলে সেটা শুধু আপনার নাহ সমগ্র মানবজাতি উপকারে লাগতে পারে। যেমন এই বইয়ের লেখক বলেছেন কোন কাজ করার জন্য আপনি যত বেশি বাধার সম্মুখীন হবেন, ততবেশি আপনি নিশ্চিত হতে পারেন যে সেই কাজটা আপনার অবশ্যই করা উচিত।

Advertisement

যদি আপনি এই ব্যাপারে আরো বিস্তারিত জানতে চান, তাহলে এই লিঙ্ক থেকে আপনি চাইলে বইটা কিনে পড়তে পারেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top