নিজেকে কিভাবে ভালোবাসতে হয়_

ভালোবাসা: নিজেকে কিভাবে ভালোবাসতে হয়?

সত্যি বলতে আমাদের মধ্যে খুব কম মানুষই এরকম আছেন, যারা আসলেই নিজেকে নিজে ভালোবাসেন। কারণ খুব কম মানুষই আছেন, যারা একা খুশি থাকতে পারেন। আমাদের নিজের প্রতি নিজের ভালোবাসা আমাদের জীবন যাপনের গুণমান নির্ধারণের ক্ষেত্রে এটা একটা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

যত কম আপনি নিজেকে নিজে ভালোবাসবেন, নিজের মনের ভিতরে কি চলছে সেটা মন দিয়ে শোনা এবং বোঝার যত কম চেষ্টা করবেন। তত বেশি আপনি আপনার লাইফে কনফিউজড এবং ফ্রাস্ট্রেটেড অনুভব করতে শুরু করবেন।

এবার প্রশ্নটা হচ্ছে নিজেকে নিজে ভালোবাসাটা এত গুরুত্বপূর্ণ কেন?

কারণ যদি আপনি নিজেকে নিজে ভালবাসতে শিখে যান, তবে সেটা আপনার সেল্ফ কনফিডেন্স এবং নিজের প্রতি শ্রদ্ধা কে বহুগুণে বাড়িয়ে দেবে। ফলে স্বাভাবিক বেশিরভাগ সময় আপনার মধ্যে একটা পজিটিভ প্রভাব কাজ করবে। আর তাছাড়া অন্য কাউকে ভালোবাসার আগে নিজেকে নিজে ভালবাসতে শেখাটা অত্যন্ত দরকার। কারণ যে নিজেকেই ভালবাসতে জানেনা, সে অন্যকে কিভাবে ভালবাসবে! ফলে আপনার নিজের গুণমান প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে এটার উপরই নির্ভর করছে যে, আপনি নিজে নিজেকে কতোখানি ভালোবাসেন।

Advertisement

চলুন দেখে নেওয়া যাক কিভাবে আপনি চাইলে কিভাবে নিজেকে ভালোবাসার ক্লোনটা নিজের মধ্যে গড়ে তুলতে পারেন।

আপনার নেগেটিভ বিষয় চিন্তা করা বাদ দিন:

সবসময় আপনার নিজের জীবনে নেগেটিভ কি হচ্ছে সেটার দিকে নজর দেওয়ার একটা বাজে অভ্যাস। কারণ সব সময় আপনার যদি আপনার লাইফে বাজে কি কি হচ্ছে, সেদিকেই আটকে থাকেন। তাহলে একটা সময়ের পর আপনার মনে হতে শুরু করবে যে, আপনার লাইফে ভাল বলতে কিছুই নেই। যেটা একেবারেই সত্যি না। এটা কখনোই সম্ভব না যে, একটা মানুষের লাইফে কোন কিছুই ভালো হচ্ছে না। একটু দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টালেই আপনিও আপনার লাইফে প্রচুর ভালো কিছু লক্ষ্য করতে পারবেন। আর এই দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টানোর জন্য সবার আগে দরকার আপনার কাছে এই মুহূর্তে যা আছে, যেটুকু আছে, সেটুকুতে আগে সন্তুষ্ট হয়ে তারপর নিজের লক্ষ্য গুলো পূরণ করার উদ্দেশ্যে কাজ করা।

 কিভাবে ভালোবাসতে হয়
কিভাবে ভালোবাসতে হয়

এখন আপনার কাছে যতটুকু আছে ততটুকু যদি আপনি সন্তুষ্ট না হতে পারেন, তাহলে কি করে আপনি এটা বলতে পারেন যে, আরেকটু বেশি পেলে আপনি সন্তুষ্ট হয়ে যাবেন। সব সময় আপনি যতখানি চাইছেন ঠিক ততোখানি হয়তো পাবেন না। যেখানে পৌঁছাতে চাইছেন এগজ্যাক্টলি সেখানে হয়তো পৌঁছাতে পারবেন না। কিন্তু সবসময় এটা মাথায় রাখবেন আপনার কাছে এই মুহূর্তে যা রয়েছে, যতটুকু রয়েছে এটাতে আপনি সন্তুষ্ট। এই পৃথিবীতে এরকম কোটি কোটি মানুষ রয়েছে যারা হয়তো সারা জীবনেও সেটুকুও কোনদিন পাবে না। তাদের কাছে আপনার জীবনটা স্বপ্নের মতো। অথচ আপনি নিজেই নিজের ভালো খোঁজে পাচ্ছেন না। এখন থেকে আপনাকে সবসময় নিজের অর্জন কি কি রয়েছে তা নিয়ে হিসেব করতে হবে। তাহলে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

Advertisement

আপনাকে অবহেলা করা বন্ধুদের এখুনি বাদ দিয়ে দিন:

আপনি যাদের সঙ্গে বেশিরভাগ সময় কাটান তাদের পাঁচ জনের চরিত্রের গড় হলেন আপনি।আপনার যদি এরকম কোন বন্ধু থাকে, যে সবসময় আপনাকে ছোট করে দেখানোর চেষ্টা করে, তাহলে আপনার এখনই তার সঙ্গ ত্যাগ করা উচিত। অন্যদিকে যদি আপনার কোন বন্ধু আপনাকে আপনার স্বপ্ন পূরণের জন্য অনুপ্রাণিত করে তোলে, তবে তার সংস্পর্শে থাকলে আপনি নিজের প্রতি ভালো অনুভব করতে শুরু করবেন।

“দুষ্ট গরুর থেকে শূন্য গোয়াল অনেক ভাল।”

যাদের কাছে আপনার কোন দাম নেই তাদেরকে দাম দেওয়ার কোনো মানেই হয় না। নিজের মূল্যটা বুঝতে শিখুন, যারা আপনাকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে, তাদের সাথে সময় কাটাতে থাকলে, আপনার নিজের চোখে নিজের প্রতি শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা দুটোই দিন দিন কমে যেতে থাকবে। তাই শুধুমাত্র তাদের সাথে বন্ধুত্ব বজায় রাখুন, যারা আপনাকে উৎসাহিত করে এবং প্রকৃতপক্ষে আপনার ভাল চায়।

Advertisement

সবাই যা করছে আপনিও তা করার চেষ্টা করবেন না:

সবাই যা করছে আপনাকেও সেটাই করতে হবে তার কোনো মানে নেই। বা অন্য কিছু করতে চাইলে যে সবার কাছ থেকে আগে তার জন্য পারমিশন নিতে হবে তারও কোনো প্রয়োজন নেই। এই পৃথিবীতে আপনার সময় সীমিত। তাই আজ আপনি যে কাজটা করবেন, সেটা আপনার জন্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আপনার সীমিত সময়ের মধ্যে থেকে একটা দিন আপনি সেই কাজে বিনিয়োগ করতে চলেছেন। তাই বাঁচার জন্য অন্যের অনুমতির অপেক্ষায় বসে থাকা আমার মতে নিছক বোকামি।

জীবন তখনই সুন্দর হয়ে উঠবে, যখন আপনি যে কাজটা করতে চান, সেটাই আপনি করবেন। আর তার জন্য আপনার অন্য কারো সমর্থন পাওয়ার প্রয়োজন নেই। যেটা প্রয়োজন সেটা হলো নিজের সমর্থন টুকু নিজের জন্য পাওয়া।

অন্যের সাথে তুলনা করা বন্ধ করুন:

এই সমাজ আমাদের ছোটবেলা থেকে শিখিয়ে এসেছে। যার কাছে টাকা আছে, ক্ষমতা আছে, সৌন্দর্য এবং যৌবন আছে। তারই একমাত্র এই পৃথিবীতে মূল্য আছে। আর যদি আপনি এই মিথ্যাগুলো বিশ্বাস করেন, তাহলে জেনে নিন আপনি কখনোই নিজেকে নিজে সত্তিকারের ভালোবাসতে পারবেন না। আপনার মন সবসময় আপনাকে বলতে থাকবে আমার কিছু নেই। আমার দ্বারা কিচ্ছু হবে না। মনে হবে আপনি কোন কিছু যোগ্য না। সব সময় মনের ভিতর একটা খালি খালি ভাব কাজ করবে। যখনই আপনি আপনার লক্ষ্যে পৌঁছে যাবেন, তখনই আবার আপনার অহংকার নতুন করে আর একটু দূরে লক্ষ্য স্থির করে দেবে। তাই কে কি করলো? কে কি পেল সে দিকে নজর না দিয়ে নিজে কতখানি পেয়েছেন শুধুমাত্র সেদিকে নজর দিন। আর যখনই দেখছেন ফেইসবুক হোয়াটসঅ্যাপের কোন স্ট্যাটাস দেখে অন্য কারো সাথে আপনি না চাইতেও নিজেকে তুলনা করে ফেলেছেন, তখন একটা জিনিস মনে রাখবেন যে, আসলে ভিতর থেকে কি অবস্থায় আছে তার সঠিকটা কেউ অনলাইনে দেখায়না। অনলাইনে সবাই ভীষণ হাসি খুশিভাবে জীবন যাপন করছে। এটা তুলে ধরার চেষ্টা করে কিন্তু সেখানে আসল সত্যিটা অন্য কিছুই।

Advertisement

নিজেকে যত্ন করুন:

আপনি নিজের শরীর, মন এবং সম্পর্কগুলোর দিকে কতটুকু খেয়াল রাখেন? নিজের সম্পর্ক, মন ভালো রাখার জন্য প্রতিদিন এই করা উচিত। পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমানো, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, নিজের এবং আশেপাশের লোকেদের সাথে ভালো ব্যবহার করা, সুযোগ অনুযায়ী একটু খেলাধুলা করা, নিজের মনের ভিতরে কি চলছে সেদিকে নজর দেওয়া এবং মেদিটেশন করা।

এর মধ্যে থেকে কটা কাজ আপনি রোজ করেন?

যদি একটাও না করেন, তাহলে কিভাবে আপনি এটা বলতে পারেন যে, আপনি নিজেকে নিজে ভালোবাসেন। দেখুন, আজ থেকে যদি আপনি চান, আপনার জীবনে পরিবর্তন আসুক, তাহলে আজ থেকে আপনাকে সেই কাজগুলো করতে হবে, যেগুলো আপনি এর আগে কোনদিন করেননি। ডিফারেন্ট ইনপুট সমান ডিফারেন্ট আউটপুট। যে সমস্ত জিনিস গুলো আপনাকে অধঃপতনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে, সেগুলো থেকে দূরে সরে আসুন। যেগুলো উন্নতির দিকে নিয়ে যাবে সেগুলো দিকে এগিয়ে যান।

Video

নিজেকে ভালোবাসা মানে শুধু মাত্র মানসিক একটা অবস্থান না। এর মানে হচ্ছে প্রতিদিনের জন্য ছোট ছোট কিছু অভ্যাস গড়ে তোলা যেগুলো আপনার জীবনটাকে দিন দিন আরও উন্নত করে তুলতে ও জীবনে ভালো রাখতে সাহায্য করবে। জীবনে বিভিন্ন উৎসব আসবে চলে যাবে, দিন আসবে চলে যাবে, কিন্তু নিজের প্রতি সত্যি কারের ভালোবাসা সারাজীবন আপনার সাথে থেকে যাবে। যদি আপনি সেটাকে ধরে রাখতে পারেন।

Advertisement

এবার যদি আমি পুরো লেখাটাকে সারসংক্ষেপ করি। তাহলে আমরা বুঝতে পারছি। নিজের প্রতি ভালোবাসা গড়ে তোলার জন্য আপনাকে সবমিলিয়ে তিনটি জিনিস ফলো করতে হবে:

১. নিজের বেশিরভাগ সময় সেই কাজগুলো করে কাটান, যেগুলো আপনার নিজের প্রতি ভালোবাসা বাড়িয়ে তোলে।

২. নিজের বেশিরভাগ সময় সেই ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করে কাটান, যেগুলো আপনার নিজের প্রতি ভালোবাসা বাড়িয়ে তোলে।

Advertisement

৩. নিজের বেশিরভাগ সময় সেই সমস্ত মানুষগুলোর সাথে কাটান, যারা আপনার নিজের প্রতি ভালোবাসা বাড়াতে সাহায্য করে।

সব সময় মনে রাখবেন নিজেকে ভালোবাসা মানে কোন স্বার্থপরতা না। কারণ যদি আপনি নিজেকে নিজে ভালোবাসতে না জানেন, তাহলে কখনোই আপনি অন্য কাউকে প্রকৃতভাবে ভালোবাসতে পারবেন না। সবশেষে আপনার কাছে একটা ছোট্ট অনুরোধ যদি লেখাটি আপনার ভালো লেগে থাকে, তাহলে অবশ্যই লেখাটাকে নিজের প্রিয়জনদের সঙ্গে এখনই শেয়ার করুন। যাতে তারাও নিজেকে ভালোবাসার অভ্যাস নিজের মধ্যে গড়ে তুলতে পারেন।

Advertisement

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top