সফলতার জন্য মেধা নাকি পরিশ্রম

সফলতার জন্য মেধা নাকি পরিশ্রম! কোনটা বেশি প্রয়োজন?

আচ্ছা আইআইটি বা ইউপিএসসি এর মতো কঠিন কম্পিটিটিভ এক্সাম গুলো ক্র্যাক করতে পারার জন্য কোনটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ? মেধা নাকি পরিশ্রম! অনেক সময় কি হয়, যখন জীবনে কোন ক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করতে পারার প্রশ্ন আসে, তখন আমরা মেধাকে পরিশ্রমের থেকে অনেক বেশি শক্তিশালী বলে মেনে নিয়ে হার মেনে নি। ফলে পরিশ্রম করলে হয়তো যে সফলতা অর্জন করতে পারতাম সেটা হাতছাড়া হয়ে যায়। কিন্তু আজকের এই আর্টিকেলটা পড়ার পর আপনার কাছে এটা জলের মত পরিষ্কার হয়ে যাবে যে, জীবনের যেকোনো ক্ষেত্রে সফলতা পাওয়ার জন্য মেধা ও পরিশ্রম। এই দুটোর কোনটার গুরুত্ব আসলে বেশি। 

সফলতার জন্য মেধা নাকি পরিশ্রম! কোনটা বেশি প্রয়োজন_
সফলতার জন্য মেধা নাকি পরিশ্রম! কোনটা বেশি প্রয়োজন

যাতে সেই সুযোগগুলো আর কখনো আপনার হাতছাড়া না হয়। কারণ সাইন্টিফিক রিসার্চের উপর ভিত্তি করে পাওয়া কিছু তথ্য এই আর্টিকেলটিতে আমি আপনার সঙ্গে শেয়ার করব। তার সাথে আর্টিকেলটির শেষের দিকে আমি আপনাকে এটাও বলব যে, সেই পরিশ্রম করতে পারার জন্য যে তার পাগলামী আপনার মধ্যে থাকা দরকার, সেটা আপনি কিভাবে নিজের মধ্যে জাগিয়ে তুলবেন। তাই যদি আপনি জীবনে সফল হওয়ার জন্য দরকার সেই জেদ আর পাগলামী নিজের মধ্যেও দেখতে চান, তাহলে অবশ্যই কিন্তু আপনাকে আর্টিকেলটা একদম  শেষ পর্যন্ত পড়তে হবে। আর দেরি না করে শুরু করা যাক:

মেধা নাকি পরিশ্রম! কোনটা সফলতার প্রধান চাবিকাঠি?

এই প্রশ্নটা গ্রিট বইয়ের লেখক কে এতটাই ভাবিয়ে তুলেছে যে, তিনি তার চাকরি ছেড়ে সাইকোলজি নিয়ে পড়াশোনা করতে শুরু করে দেন। তারপর এই বিষয়টি নিয়ে তিনি রিচার্জ করতে শুরু করেন। তিনি ইস্কুল স্টুডেন্টদের থেকে শুরু করে কলেজ স্টুডেন্ট, মিউজিশিয়ান,  খেলোয়াড়, এবং ওয়ার্কিং প্রফেশনালদের উপর  রিচার্জ করা শুরু করেন। তার এই রিসার্চ থেকে তিনি  যে সফলতা খুঁজে পান, সেটা হল:

Advertisement
মেধা ও পরিশ্রম
মেধা ও পরিশ্রম

উপরের ছবিটি ভালো করে লক্ষ্য করুন। এখানে সেই সূত্রটি দেওয়া আছে। এ সূত্রটির ছিল মূলত এ রিসার্চ-এর ফলাফল। লক্ষ করুন এখানে মেধা রয়েছে একবার কিন্তু সমীকরণের পরিশ্রম রয়েছে দুবার। অর্থাৎ জীবনে কোনো ক্ষেত্রে সাফল্য পাওয়ার জন্য মেধার তুলনায় পরিশ্রম দ্বিগুণ বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

এবার একটা রিয়েল লাইফে উদাহরণ দিয়ে আমি আপনাকে বোঝানোর চেষ্টা  করি। মায়ের পেট থেকে পড়েই আপনি যেমন দৌড়াতে জানতেন না, ঠিক তেমনি হোসেন ভোল্টও দৌড়াতে জানতেন না। কিন্তু ধীরে ধীরে পরিশ্রম করি আপনি এবং হোসেন ভোল্ট দুজনেই দৌড়াতে দক্ষ হয়ে উঠেছেন। কিন্তু আপনাদের দুজনের মধ্যে পার্থক্য হল,  আপনি আর পরিশ্রম চালিয়ে যাননি, কিন্তু হোসেন ভোল্ট নিয়মিত জের ধরে অমানবিক পরিশ্রম চালিয়ে গেছেন। সেই কারণেই তিনি দৌড়ানোর সাফল্য অর্জন করেছেন, কিন্তু আপনি তা করতে পারেননি।

আপনার দীর্ঘ মেয়াদী সফলতা অর্জন করতে জেদ ও পাগলামি যেভাবে সাহায্য করে:

প্রতি বছর কয়েক লক্ষ ছাত্র ছাত্রী আইআইটি বা ইউপিএসসি এর মতো কম্পিটিটিভ এক্সামের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। হয়তো একবার কি, খুব বেশি হলে দু’বারের মত করে চেষ্টা করে। কিন্তু একবার কি দুবার পার হয়ে যাওয়ার পর খুব অল্প সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী থাকে, যারা এই লড়াইয়ে টিকে থাকে।  বাকিরা হাত তুলে দেয়, বছরের শুরুতেই লক্ষ্য লক্ষ্য ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে প্রায় প্রত্যেকটি অনেক উৎসাহ নিয়ে প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। কিন্তু বছর যত বাড়তে থাকে উৎসাহ কমে যেতে থাকে। একই ঘটনা ঘটে সম্পর্কগুলোর ক্ষেত্রেও,  প্রতিটা সম্পর্কে প্রেমের শুরুতে উৎসাহ তাকে তুঙ্গে। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সেই উৎসাহ মলিন হয়ে যেতে শুরু করে। আর যখন উৎসাহ মলিন হয়ে পড়ে, তখন সেই চেষ্টাটাই সম্পর্কটা চালিয়ে যেতে যা দরকার পড়ে তা’হল জেদ আর পাগলামি।

Advertisement

এই জেদ আর পাগলামিকে বইয়ের লেখকের একসাথে গ্রিট নাম দিয়েছেন। তার রিসার্চ অনুযায়ী কোন  দীর্ঘমেয়াদী সফলতা অর্জন করার জন্য গ্রিট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারন এটা বাস্তব সত্যি কথা হলো কোন কাজ আপনার যতই পছন্দের কাজ হোক না কেন, সেই কাজ নিয়ে আপনি যতই প্যাশনেট উৎসাহী হন না কেন, একটা না করতে থাকলো একটা সময় পড়ে গিয়ে সমস্ত কাজই বোরিং লাগতে শুরু করে। অথবা কোন বড় বাধা সম্মুখীন হতে হয়, যেটা সেটার প্রতি উৎসাহ কে সম্পূর্ণ মেরে ফেললে। হয়তো আপনার এক্টিং করতে খুব ভাল লাগে কিন্তু রোজ রোজ একি ক্লাস দীর্ঘদিন ধরে করতে  থাকলে, তারপর একটা সময় পরে গিয়ে সেটাও বোরিং লাগতে শুরু করে। আর তার সাথে যদি একদিন ক্যারিয়ারে কোনো ঘটনা দেখতে পাওয়া যায়, তাহলে সেটা অ্যাক্টিং এর প্রতি উৎসাহ টাকে আরও মেরে ফেলে। এমন সময় কঠিন সময়গুলো থেকে বেরিয়ে এসে সফলতা অর্জন করতে সাহায্য করতে পারেন একমাত্র জেদ আর পাগলামি। 

এবার ফাইনালি আসা যাক কিভাবে নিজের মধ্যে সেই পাগলামি ও জেদ জাগিয়ে তোলা সম্ভব:

তো তার জন্য আগের চারটি জিনিস থাকা দরকার। 

১. ইন্টারেস্ট: যার পড়াশোনার প্রতি কোন ইন্টারেস্ট নেই। তার আইআইটি বা ইউপিএসসি ক্রাক কারার চিন্তা করাটাই শুধু শুধু সময় নষ্ট করা। তার উচিত অন্যকিছু যেটাতে তার ইন্টারেস্ট আছে। সেখানে কিছু করার চেষ্টা করা। কারণ ইন্টারনেট জিনিসটা ভিতর থেকে আসে। এটা জোর করে ডেভেলপ করার চেষ্টা করাটা প্রায় অসম্ভব। যেমন: আমি নিজেও জানিনা কেন এতগুলো খেলা থাকতে ব্যাডমিন্টন খেলা আমার সবচেয়ে বেশি পছন্দের। ব্যাডমিন্টন খেলার  প্রতি আমার ইন্টারেস্ট সবথেকে বেশি বলে আগে আমি ক্রিকেট ফুটবল খেলতাম। কিন্তু এখন কাজের জন্য সেগুলো সবই বন্ধ হয়ে গেছে অথচ ব্যাডমিন্টন খেলা টা এখন আমি চালিয়ে যাচ্ছিল। যদিও ব্যাটমিনটনে আমি এখনো তেমন কোনো সাকসেস কিছুই অর্জন করতে পারিনি। তাও ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতার পাগলামিটা আমি প্রতিদিন অনুভব করতে পারি।

Advertisement

২, প্রাকটিস: শুধু পড়াশোনার প্রতি ইন্টারেস্ট থাকলেই আইআইটি বা ইউপিএসসি ক্রাক করা যায় না। তার জন্য দরকার প্রাক্টিস। এরকম প্রচুর ছেলেমেয়ে রয়েছে, তাদের পড়াশোনার প্রতি ইন্টারেস্ট রয়েছে। কিন্তু তাদের জীবনে টিভি, মোবাইল, ল্যাপটপ, অসম্ভব এরকম প্রচুর ফ্রাকশনস থাকায় তাদের প্রাক্টিসে অভাব থাকার কারণে তারা তাদের স্বপ্ন পূরণ করতে পারে না। সে দেস্ট্রাকশন গুলো তাদের মনকে ডাইভার্ট করে রেখেছে, তাদের মধ্যে সেই যে তার পাগলামী ডাকে জেগে উঠতে দেয় না।

৩. পারপাস: ভাবুন দুজন ছাত্র রয়েছে দুইজন ডক্টর হতে চাই। দুজনেই যথেষ্ট মেধাবী কিন্তু এদের মধ্যে একজন ডক্টর হতে চাই অনেক টাকা রোজগার করে বড়লোক হতে পারার জন্য। আর অন্যজন ডাক্তার হতে চায় কারণ ছোটবেলায় সে তার মাকে টাকার অভাবে বিনা চিকিৎসায় নিজের চোখের সামনে মারা যেতে দেখেছে তাই সে ডাক্তার হতে চাই। যেন এরকম আর কোন মাকে বিনা চিকিৎসায় তার সন্তানকে ছেড়ে চলে যেতে না হয়। কি মনে হয়! 

এই দুজনের মধ্যে কে তার স্বপ্ন পূরণের পথে হাজার বাধা আসলেও দাঁতে দাঁত চিপে লেগে থাকবে?

কমনসেন্স সেটা বলে, লেখক এর করা সায়েন্টিফিক রিসার্চ সেটাই বলছে। যখন কোনো লক্ষ্য পূরণের পিছনের কারণটা অনেক বড় হয়, তখনই যে কারোর মধ্যে সেই যে তার পাগলামী কে জেগে উঠতে দেখা যায়। 

Advertisement

৪. হোপ: কেউ যতই মেধাবী, যতই দক্ষ হোক না কেন, তাকে আজ নয়তো কাল একবার হলেও জীবনের লক্ষ্য পূরণের পথে ব্যর্থতার সম্মুখীন হতেই হবে। এটা নিশ্চিত। আর ব্যর্থতার কারণে মাটিতে মুখ থুবরে পড়ে যাওয়ার পর আবার উঠে দাঁড়াতে পারার জন্য যেটা দরকার। সেটা যোগান দিতে পারে সেটা একমাত্র হোপ অর্থাৎ আশা। নিজের মধ্যে যদি এই বিশ্বাস থাকে, হয়তো আমি আরেকবার চেষ্টা করলে সফল হব।  তাহলে সে সফল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। যদি এই সম্ভাবনা কারোর মধ্যে না থাকে, তাহলে তার মধ্যে জেদ আর পাগলামিটা কখনো জন্মানোর সম্ভাবনা নাই। ফলে তার সফল হওয়ার সম্ভাবনা নাই।

এই জিনিসগুলো আমি এঞ্জেলা ডাকোথ এর লেখাটা বই পড়ে শিখেছি। যদি আপনি এ বিষয়ে আরো ডিটেইলসে জানতে চান, তাহলে এই এখানে দেওয়া লিঙ্ক থেকে আপনি বইটা কিনে পড়তে পারেন। সবশেষে আপনার কাছে একটা ছোট্ট অনুরোধ! যাতে করে আমরা সবাই নিজের জীবনের লক্ষ্য পূরণের জন্য জেদ ও পাগলামী কে জাগিয়ে তুলতে পারি। সেটা নিশ্চিত করার জন্য দয়া করে এই লিখাটা আপনার হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাস এবং ফেসবুক স্টোরি তে শেয়ার করুন। আপনার জন্য অনেক শুভকামনা রইল।

Advertisement

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top