পণ্য বিক্রি করার তিনটি হিপনোটাইজিং মার্কেটিং কৌশল

পণ্য বিক্রি করার তিনটি হিপনোটাইজিং মার্কেটিং কৌশল

আজকের লেখাতে আমরা গল্পের মাধ্যমে মার্কেটিংয়ের কিছু কৌশল শেয়ার করব আপনাদের সাথে। সাধারণত আজকে আমরা তিনটি হিপনোটাইজিং বিক্রয় কৌশল আপনাদের সাথে শেয়ার করব। সম্পর্কে যারা জানেন না তারা অনলাইনে সম্পর্কে আরেকটু বিস্তারিত দেখে নিতে পারেন। সাধারণত ইভটিজিং এর মাধ্যমে কোন ব্যক্তি কে যেকোনো বিষয়ে কাজ করানোর জন্য আগ্রহী করে তোলা বা তাহাকে বাধ্য করাকে বুঝানো হয়।

ইস! কাজটা না পুরো ভুল হয়ে গেল। অনেক বেশি দাম নিয়ে নিল। আমারও যে হঠাৎ করে কি হলো। হ্যা, বলেছিলাম এজন্য এটা ক্রয় করতে হলো। অনেক সময় কি হয়, আমরা কারো কথায় কেমন যেন একটা হিপনোটাইজ হয়ে যাওয়ার মতো হয়ে আমরা যেকোনো কাজে বা কেউ কোনো পণ্য অফার করলে সেটা ক্রয় করার জন্য হ্যাঁ বলে দেয়। আর পরে গিয়ে আফসোস করে মরি। কিন্তু আজকের এই লেখাটা পড়ার পর আপনাকে আর কখনো সেই আফসোসটা করতে হবেনা।

তিনটি হিপনোটাইজিং মার্কেটিং কৌশল
তিনটি হিপনোটাইজিং মার্কেটিং কৌশল

কারণ, আজ এই লেখাটাতে আমি সেই সমস্ত হিপনোটাইজ করার ট্রিক্স গুলোই আপনার সাথে শেয়ার করতে চলেছি। যাতে করে কেউ যদি অসৎ ভাবে সেই ট্রিক্সগুলো আপনার উপর এপ্লাই করার চেষ্টা না করে, তাহলে যেন আপনি সতর্ক হয়ে যেতে পারেন। অথবা আপনি যেন চাইলে কোনো ভালো উদ্দেশ্যের জন্য সেই হিপনোটাইজ করার টিপস গুলো অন্য কারোর উপর এপ্লাই করে তাকে দিয়ে হ্যাঁ বলিয়ে নিতে পারেন।

Advertisement

এই লেখাটাতে আমি রিয়েল লাইফ এক্সাম্পলস সহ তিনটা কৌশল শেয়ার করছি। যার মধ্যে তিন নাম্বারটা কিন্তু মুস্ট এফেক্টিভ। তাই যদি আপনি কাউকে দিয়ে কোনো কাজ করিয়ে নিতে চান বা নিজের ব্যবসা বৃদ্ধি করতে যেকোনো ক্রেতা কে পণ্য বিক্রি করতে চান, তাহলে অবশ্যই কিন্তু লেখাটা আপনাকে একদম শেষ অবধি পড়তে হবে। তো চলুন, আর দেরি না করে শুরু করা যাক!

রেসিপিপ্রসিটি কৌশল:

কয়েক মাস আগে একদিন একটা শপিং মলে ঢোকার গেটের মুখে হঠাৎ করে দুজন মহিলা এগিয়ে এসে আমার গার্লফ্রেন্ডের হাতে একটা গোলাপ ফুল তুলে দিয়ে বললেন, আজ নির্ভয়া হত্যাকাণ্ডের আসামিরা শাস্তি পেয়েছে। তাই আমাদের মহিলা সমিতির পক্ষ থেকে সমস্ত মেয়েদের ফ্রিতে একটা করে গোলাপ ফুল দিচ্ছি।

থ্যাঙ্ক ইউ বলে আমরা সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে যাচ্ছি, এমন সময় সে দুজন মহিলা দের মধ্যে থেকে একজন বলেন, আর একটা রিকোয়েস্ট আছে। যাতে করে মেয়েদের উপর যারা এই ধরনের অত্যাচার করছে, তাদের যোগ্য শাস্তি হয়, সেটা নিশ্চিত করতে পারার জন্য আমরা মহিলা সমিতির পক্ষ থেকে ডোনেশান কালেক্ট করছি। তাই যদি আপনি কিছু ডোনেট করতেন চান, করতে পারেন। আর সাথে সাথে আমার গার্লফ্রেন্ড ৫০ টাকা বের করে সে দুজনের হাতে দিয়ে দিল।

Advertisement

এবার কথাটা হচ্ছে, সেই মহিলা দুজন মুখে আমাদের যা বলল সত্যি যদি তারা সেইজন্য ডোনেশন কালেক্ট করছেন, তাহলে তো অবশ্যই খুবই ভালো কথা। কিন্তু সেটা সত্যি নাও হতে পারে। কারণ, সেই মহিলা সমিতির আদৌ কোন অস্তিত্ব আছে কিনা আমাদের দুজনের মধ্যে কেউই জানতাম না। সেটার কোন প্রমাণ আমরা দেখতেও চাইনি। ঠিক যেন হিপনোটাইজ হয়ে যাওয়ার মতো হয়ে সম্পূর্ণ অচেনা দুজন মহিলা কে আমরা টাকা ডোনেট করে দিলাম।

তিনটি হিপনোটাইজিং মার্কেটিং কৌশল (1)
তিনটি হিপনোটাইজিং মার্কেটিং কৌশল (1)

এখানেই মহিলা দুজন আমাদের হিপনোটাইজ করার জন্য যে যে অস্ত্র গুলো ব্যবহার করেছিলেন। তার মধ্যে অন্যতম একটা অস্ত্র ছিল ওই গোলাপ ফুলটা। যেটা তারা শুরুতেই ফ্রিতে আমার গার্লফ্রেন্ডের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। আরেকটা কে বলা হয় রেসিপিপ্রসিটি কৌশল।

যখন কেউ আমাদের কোনো ফেভার করে, তখন আমরা ভিতর থেকে একটা আবদার করতে শুরু করি, সেই ফেভারটা তাকে রিটার্ন করতে পারার জন্য। কেউ যদি আপনাকে তার জন্মদিনের পার্টিতে ইনভাইট করে, তাহলে যদিও তাকে হয়তো আপনার পছন্দ না। কিন্তু তবু আপনার জন্মদিনের পার্টিতে আপনিও তাকে ইনভাইট করে সেই ফেভারটার রিটার্ন দিয়ে দিতে চাইবেন। ঠিক এই কারনেই ফুড দোকানদার প্রথমে কাস্টমারদের খাবার টেস্ট করায়। যাতে করে তারা আপনাকে একই কৌশলটি ব্যবহার করে আটকে রাখতে পারেন। এখানে আপনাকে জোর করে আটকে রাখা হয়না, কিন্তু আপনার মন আপনাকে আটকে রাখে। সে খাবারটা ক্রয় করে খাবার জন্য।

Advertisement

লাইকিং:

গোলাপ ফুল টা দিয়ে হিপনোটাইজ করার পর পরবর্তী যে অস্ত্রটি মহিলা দুজন আমাদের উপর অ্যাপ্লাই করেছিলেন সেটা হল লাইকিং। মেয়েদের উপর যারা অত্যাচার করছে, তাদের যাতে যোগ্য শাস্তি হয়। এটা আমরা সবাই চাই এবং মহান উদ্দেশ্য যারা তাদের হয়ে কাজ করে থাকে, আমরা সবাই মন থেকে তাদের জন্য সাপোর্ট করি। ফলে স্বাভাবিক যারা আমাদের চিন্তা ভাবনার সঙ্গে একই রকম চিন্তাভাবনা রাখেন এবং মহান কোন উদ্দেশ্যের জন্য কাজ করছেন। যেটাকে আমরা মন থেকে সাপোর্ট করি। তাদেরকে আমরা স্বাভাবিকভাবে পছন্দ করি। আর পছন্দের মানুষটিকে আমরা চট করে না বলতে পারিনা।

আমার এক বন্ধুর সাথে একবার কি হয়েছিল। ওর ফ্যামিলির সাথে ডমিনোস এ গেছিল পিৎজা খেতে। সেদিন খুব সুন্দর দেখতে একটা মেয়ে অর্ডার নিয়েছিল। তিনি সবার সাথে কথা বলে অর্ডার টা ঠিক করে নিয়ে কাউন্টারে গেছে। অর্ডার দিতে এবার যে টাকার পরিমান ঠিক করেছিল তাতে 500 টাকার মধ্যে হয়ে যেত। কিন্তু অর্ডার দেওয়া সেই সুন্দর দেখতে মেয়েটা যখন হাসিমুখে বলল। স্যার সাথে ডমিনেট পিৎজার সাথে খেতে বেস্ট কোয়ালিটির একটা খাবার কি যুক্ত করে দিব? তাহলে কিন্তু আপনার ডমিনিক পিৎজা খাবারটা খেতে আরো দারুন হবে।

হ্যাঁ, দিয়ে দেন। পরে আবার বললো। স্যার, সাথে কোলড্রিংস যুক্ত করবো তো? এরকম ভাবে দেখা গেল পাঁচশত টাকার বদলে ওর ফাইনাল বিল হয়ে দাঁড়ালো সাড়ে আটশ টাকা। ঠিক এই কারণেই যে কোন কাস্টমার সেবা, টিকেট কাউন্টার, মোবাইল স্টোর রিসেট সেন্টার ও গাড়ির শোরুমগুলোতে এমন স্মার্ট সুন্দর ছেলে মেয়েদের নিযুক্ত করার ক্ষেত্রে বেশি প্রেফারেন্স দেওয়া হয়। যাতে হিপনোটাইজ করার জন্য লাইক সেটা মুখে কিছু বলার আগেই অটোমেটিক্যালি এপ্লাই হয়ে যায়।

Advertisement

অথরিটি হিপনোটাইজিং মার্কেটিং কৌশল:

গোলাপ ফুল গিফট করার পর সেই মহিলা দুজন আমাদের উপর অ্যাপ্লাই করেছিলেন সেটা হল অথরিটি। তারা যে মহিলা সমিতির পক্ষ থেকে ডোনেশান কালেক্ট করছে তার মধ্য দিয়ে তারা অথরিটি অস্ত্র প্রয়োগ করেছেন। কারণ, যে কেউ চাইলেই টাকা কালেক্ট করে এই সমস্যার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমে যেতে হয়ত পারবে না। কিন্তু কোন সমিতি বা সংস্থার পক্ষে এটা করা সম্ভব। আর তাই মহিলা সমিতি শব্দটা উল্লেখ করার মধ্যে দিয়ে তারা অথরিটির অস্ত্রটাকে কাজে লাগিয়ে নিয়েছিলেন।

কিছুদিন আগে কুড়ি বছর বয়সী একজন বেকার যুবতী দিল্লিতে পুলিশ ইউনিফর্ম পড়ে যারা মাক্স পড়ে নেই। সোশ্যাল ডিসটেন্স মেন্টেন করছে না, তাদের নামে জরিমানা ঠিক করে দিয়ে সাধারণ লোকের কাছ থেকে কালেক্ট করে টাকা রোজগার করছিল। যদিও পরে সন্দেহ হওয়ায় একজন পুলিশ কনস্টেবল সিভিল পরিবেশে ইচ্ছা করে তার সামনে গিয়ে তার ফাঁদে পা দিয়ে তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। এরকম প্রচুর ঘটনা প্রতিদিন আমাদের আশেপাশে ঘটে চলে। যেখানে এটা করার জন্য অথরিটি অস্ত্রটাকে অসৎ ভাবে ব্যবহার করা হয়। যেমন ধরুন, যদি আপনি একটু লক্ষ্য করে দেখেন টুথপেষ্ট থেকে শুরু করে যেকোনো হেলথ ড্রিঙ্ক মিল্ক প্রোডাক্ট এর অ্যাডভার্টাইজমেন্ট টিভিতে দেখায়। তার মধ্যে ম্যাক্সিমাম একজন ব্যক্তি ডাক্তার সেজে বিজ্ঞাপন করেন। কিন্তু আসলে সে একজন ডাক্তার নন। ডাক্তারের পোশাক পড়ে যে, সেই অ্যাডভার্টাইজমেন্টে বলে করোনা সহ সকল জীবাণু থেকে বাঁচার জন্য নম্বর ওয়ান টুথপেষ্ট হচ্ছে “কখগ”।

অথরিটি হিপনোটাইজিং মার্কেটিং কৌশল:
অথরিটি হিপনোটাইজিং মার্কেটিং কৌশল:

তারা এভাবে ডাক্তার সেজে ডাক্তারের অথরিটি ব্যবহার করে আমাদের বোকা বানিয়ে বিজ্ঞাপন করেন। কিন্তু তাদের কোন শাস্তি হয় না। আমার মায়ের মত সহজ সরল মানুষ এই অথরিটি অস্ত্রের সহজে শিখার হয়। একদিন আমার মা আমাকে বলছে যে, এই এক্সওয়াইজেড টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত মাজতে হবে। দেখিস না টিভিতে এড দেখায় ডাক্তারদের সুপারিশ করা এটাই নাম্বার ওয়ান টুথপেস্ট।
লেখাটা গুলো পড়ে আপনি যদি নিজে উপকৃত হয়ে থাকেন এবং আপনার মত অন্যদেরও এখান থেকে উপকৃত হওয়ার সুযোগ দিতে পোস্টের লিঙ্কটা আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। সবশেষে আপনার কাছে একটা ছোট্ট অনুরোধ! যাতে করে আপনার প্রিয়জনকে অসাধুভাবে তাদের উপর প্রয়োগ করা কোন ইনফ্লুয়েন্স শিকার না হয়। সেটা নিশ্চিত করার জন্য দয়া করে এই লেখাটা আপনার হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাস এবং ফেসবুকে শেয়ার করুন। আপনার জন্য অনেক শুভকামনা রইল।

Advertisement

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top